পেকুয়া প্রতিনিধি
ঈদকে কেন্দ্র করে স্মৃতিচারণ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে নতুন করে জাগ্রত করতে কক্সবাজারের পেকুয়ায় আনোয়ারুল উলুম ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে দিনব্যাপী ঈদ পুনর্মিলনী, মেজবান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
সোমবার (২৩ মার্চ) ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সকাল ৭টা থেকে শুরু হয় অনুষ্ঠানের ক্রীড়া পর্ব। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ১৮টি ব্যাচের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট মাঠজুড়ে সৃষ্টি করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়া, পুরনো স্মৃতি রোমন্থন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
জমজমাট ফাইনালে ১২ ব্যাচ ও ২৪ ব্যাচ মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৩-২ গোলে জয়লাভ করে ২৪ ব্যাচ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় ঈদ পুনর্মিলনী ও ঐতিহ্যবাহী মেজবান। প্রায় ৩৫০ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন। মেজবানের খাবারের আয়োজন ছিল স্থানীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভিন্ন এক আবেগ সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন তারা।
আয়োজকরা জানান, এই ধরনের আয়োজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাত সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রামের অঙ্গীকার শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় শুরু হয় কাওয়ালী সন্ধ্যা। আধ্যাত্মিক ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন এবং পুরো অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে এক ভিন্ন আবহের।
অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সফওয়ানুল করিম, অধ্যক্ষ আমিনুর রশিদ, উপাধ্যক্ষ ওসমান গণি, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহাবুল করিম, পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. আব্দুল্লাহ আনছারী, একাউন্ট অফিসার আবু সাইদসহ প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই ঐক্য ও সম্প্রীতি ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়দের মতে, পেকুয়ায় এ ধরনের বড় পরিসরের প্রাক্তন ছাত্রদের আয়োজন বিরল। আয়োজনটি শুধু একটি পুনর্মিলনী নয়, বরং এটি প্রজন্মের মধ্যে সংযোগ স্থাপন, মূল্যবোধের চর্চা এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
